হাওড়ার শিবপুর থানায় ঢুকে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হাঙ্গামা করার অভিযোগ উঠল বিজেপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীর গায়ে হাতও তোলা হয়। এই ঘটনায় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি সিকান্দার খান-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বিজেপির দুই পক্ষের মধ্যে পুরনো বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই দলের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতিও হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর দাউদ খানের অনুগামীদের গ্রেফতারের দাবি নিয়ে কয়েকজন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে শিবপুর থানায় যান সিকান্দার খান।
থানায় পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গে সিকান্দার এবং তাঁর সঙ্গীদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, থানার ভিতরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশের এক আধিকারিককে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিকান্দারের বিরুদ্ধে। এরপরই এক পুলিশকর্মীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশ নিজে থেকেই মামলা শুরু করে। সিকান্দার খান ছাড়াও মনোজ খান, জাহিদ কামাল এবং রোহন সিংহ নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় ঢুকে গোলমাল করা, পুলিশকে হুমকি দেওয়া এবং কর্তব্যরত কর্মীর সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগ রয়েছে।
তবে ঘটনাটি ঘিরে পাল্টা অভিযোগও সামনে এসেছে। দাউদ খানের পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর গোষ্ঠীর দুই সদস্যকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অর্থাৎ, সোমবার রাতের গোলমালের ঘটনায় দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে হাজির করানো হয়। গোটা ঘটনা নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। থানার ভিতরে কীভাবে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাটিকে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে মানতে চাননি রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ নয়, বরং কয়েকজনের ব্যক্তিগত সমস্যা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে থানায় গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। এমন ঘটনা ঘটলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


