তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের রাতারাতি যোগদানের পর আচমকাই দেশজুড়ে চর্চায় উঠে এসেছে একটি নাম— ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। অথচ দিনকয়েক আগেও এই রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের কথা কেউ জানতেন না। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর গঠিত হওয়া এই দলটিকে নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি নথিভুক্ত করে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই সর্বভারতীয় দলের প্রধান কার্যালয়টি কোনও বড় মেট্রো শহরে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকরায় অবস্থিত। এই একই ঠিকানায় বিশ্ববাজার প্রাইভেট লিমিটেড এবং পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত মহিলা কর্মী অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংস্থাও নিবন্ধিত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী, এই দলটির আর্থিক ভাণ্ডার অত্যন্ত সীমিত এবং তারা সর্বসাকুল্যে মাত্র ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে। দলের কোষাধ্যক্ষ শিউলি কুণ্ডু এবং তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডু হলেন এই দলের সভাপতি। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই দলটির প্রার্থীদের ভাগ্যে জুটেছিল মাত্র ৮২২টি ভোট। সাতটি আসনে প্রার্থী দিলেও চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চাউমানু ও কৈলাশহর আসন থেকে লড়ে যথাক্রমে ৫৩৬ ও ২৮৬ ভোট পান তাদের প্রার্থীরা। ত্রিপুরার সেই প্রার্থীরা জানিয়েছেন যে, কলকাতার নেতারা নির্বাচনের আগে যোগাযোগ করলেও ভোট মিটে যাওয়ার পর থেকে দলের সাথে তাদের আর কোনও যোগাযোগই ছিল না।
পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অসমে নামমাত্র সংগঠন থাকা এই দলটির ২০২৪-এর নির্বাচনে লড়াইয়ের ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। অথচ আজ দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই অখ্যাত ও শূন্য তহবিলের দলটিতেই নিজেদের শামিল করেছেন। আর্থিক বা সাংগঠনিক শক্তি না থাকলেও, কেবল আইনি অস্তিত্বের কারণেই এই প্রায় বেনামী দলটি এখন বাংলার শাসক শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

