পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় মসজিদের লাউডস্পিকার খুলে ফেলার জন্য পুলিশ মৌখিক নির্দেশ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মসজিদ কমিটির সদস্যদের দাবি, কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়াই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিতে বলছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় সংগঠন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, কোথাও পুলিশ সরাসরি মসজিদে গিয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে, আবার কোথাও থানায় ডেকে নির্দেশ দিচ্ছে। গত ৩ আগস্ট কলকাতার পর্ণশ্রী থানায় এমনই একটি বৈঠক হয় বলে জানা গিয়েছে। সেখানে আটটি মসজিদ কমিটি, একটি দরগা কমিটি এবং ১২টি মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুলিশ নাকি ৪ আগস্টের মধ্যে মসজিদের লাউডস্পিকার খুলে ফেলতে বলে। তবে কমিটির সদস্যরা লিখিত নির্দেশ চাইলে তা দেখানো হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ জানায় যে নির্দেশটি শুধুই মৌখিক।
সম্প্রতি রাজ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।
তবে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের বক্তব্য, তাঁরা আগে থেকেই নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে লাউডস্পিকার ব্যবহার করছেন। প্রয়োজনে প্রশাসন এসে শব্দের মাত্রাও পরীক্ষা করেছে। তাঁদের প্রশ্ন, যখন আইন শব্দের সীমা নির্ধারণ করেছে, তখন লাউডস্পিকার সম্পূর্ণ খুলে ফেলতে বলা হচ্ছে কেন।
অল বেঙ্গল ইমাম ও মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিজামুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মসজিদ ও মন্দির—সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শব্দের মাত্রা সমানভাবে পরীক্ষা করা উচিত। অন্যদিকে, জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ (পশ্চিমবঙ্গ)-এর সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আদালত বা সরকারের কোনও লিখিত নির্দেশে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরানোর কথা বলা হয়নি। তাই শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ঠিক নয়।
রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবশ্য বৈষম্যের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের এই অভিযান শুধু মসজিদের জন্য নয়, মন্দির-সহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
এদিকে, আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়া পুলিশ এ ধরনের নির্দেশ দিতে পারে না। তাই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হবে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, যদি কোনও নিয়ম কার্যকর করা হয়, তবে তা সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হলেই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় থাকবে বলে তাঁর মত।


