এসআইআর-এর কাজ চলার মধ্যেই চাঁপদানিসহ হুগলির বিভিন্ন জায়গায় বিপাকে পড়েছেন বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমারেশন ফর্ম তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে সেই ভোটারদের খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বিএলও জানিয়েছেন, একই বাড়িতে তিনবার গিয়েও কাউকে না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারা পাবলিক নোটিস টাঙাতে শুরু করেছেন।
চাঁপদানি বিধানসভার ১১১ নম্বর বুথে ২৫ জন এবং ১১২ নম্বর বুথে ৩০ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা যায়নি বলে জানা গেছে। বাড়ির দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় বুথে বুথে নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কেউ প্রকৃত ভোটার হলে এলাকায় না থাকলেও পরিবারের কেউ না কেউ নিশ্চয়ই বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
একই ছবি দেখা গেছে বৈদ্যবাটি পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডেও। সেখানে দু’টি বুথে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করতে গিয়ে বহু ভোটারের হদিস মেলেনি। বিএলওরা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এলাকায় বারবার যেতে হয়েছে। তবুও যাদের পাওয়া যায়নি, তাদের নামে পাবলিক নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারকে খুঁজে না পেলে সেই এলাকাতেই নোটিস টাঙাতে হয়। সেই নির্দেশ মেনেই চাঁপদানির প্রতিটি বুথে এই প্রক্রিয়া চলছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে এসআইআর-এ এখন পর্যন্ত ৩৫ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়ার হিসাব মিলেছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার। এছাড়া প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার জনকে একেবারেই খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। ঠিকানা বদলের কারণে যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তাদের সংখ্যাও কম নয়।


