মুর্শিদাবাদ জেলার রানিতলা থানা এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এক শিক্ষক ও বুথ লেভেল অফিসারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম হামিমুল ইসলাম (৪৭)। তিনি পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি খড়িবোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে পূর্ব আলাইপুর গ্রামের একটি বুথের বিএলও-র দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যার পর স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। খবর পেয়ে রানিতলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভগবানগোলা মহকুমার এক পুলিশ আধিকারিক। এই ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হামিমুল ইসলাম। স্কুল পরিচালনার দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের চাপ তাকে আরও ক্লান্ত করে তুলেছিল বলে পরিবারের দাবি। তার স্ত্রী শিলা বিবি বলেন, শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও স্বামীর ওপর একাধিক দায়িত্ব চাপানো হয়েছিল। এতে তিনি গভীর মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজ শুরু করেন। আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজ করেও কোনও খোঁজ না পেয়ে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ স্কুলে যান তারা। সেখানেই একটি ঘরের ভিতর ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ দেখতে পান। দুপুরের পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবার আরও সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
মৃতের দাদা ফরমানুল ইসলাম দাবি করেছেন, এটি আত্মহত্যা না অন্য কিছু, সেই সত্য উদ্ঘাটন হোক পুলিশের তদন্তে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত তিন দিনের মধ্যে জেলায় দ্বিতীয় কোনও বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


