এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নামে সাধারণ ভোটারদের বারবার ডেকে অযথা ভোগান্তি করা হচ্ছে, এই অভিযোগকে ঘিরে পূর্ব বর্ধমান জেলায় টানা দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবারের পর বুধবারও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান সাধারণ মানুষ। বহু জায়গায় পথ অবরোধের জেরে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সামান্য তথ্যগত ভুল বা পুরনো নথি থাকা সত্ত্বেও বহু ভোটারকে শুনানিতে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। এতে কাজকর্ম ছেড়ে বারবার অফিসে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, ভাতার, কালনা ও পূর্বস্থলীর মতো এলাকায় সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু হয়। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দল বেঁধে রাস্তায় বসে পড়েন। বিক্ষোভে অংশ নেন প্রচুর মহিলা ভোটার। এমনকি বয়স্ক মহিলাদেরও অবরোধে বসতে দেখা যায়। ভাতার ব্লক অফিসের সামনে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। বিডিও অফিসের সামনেই শুরু হয় অবস্থান। বিক্ষোভ চলাকালীন বর্ধমান–কাটোয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। অভিযোগ ওঠে, ২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নতুন করে শুনানিতে ডেকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। একটি ব্লকেই প্রায় কয়েক হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
কেতুগ্রাম ও নাড়গোহালিয়া এলাকাতেও দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে রাখা হয়। ফলে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী গাড়ি ও সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় একাধিক সড়কে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে কাজের চাপ ও মানুষের ক্ষোভের কারণে মঙ্গলকোট এলাকায় কয়েকজন বিএলও গণইস্তফার দাবি তুলেছেন বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই শুনানি ঘিরে জেলায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, অযথা হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।


