একটানা বৃষ্টি আর গঙ্গার জল বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থশহর হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় জল জমে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বারাণসীর জেলা শাসক সত্যেন্দ্র কুমার এবং মেয়র অশোক তিওয়ারির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রধানমন্ত্রীর তরফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে খাবার, পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকেও। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, জল বাড়ার পর তৎপর হওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই কেন আরও কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া হল না, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য পরিস্থিতির উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। বর্তমানে বারাণসীতে গঙ্গার জলস্তর ৭০.২৮ মিটারে পৌঁছেছে। বিপদসীমা ৭১.২৬ মিটার। তার থেকেও চিন্তার বিষয় হল, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ সেন্টিমিটার করে জল বাড়ছে। ফলে জলস্তর দ্রুত বিপদসীমার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া।
এর আগে পুলিশ কমিশনার মোহিত আগরওয়াল এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। এনডিআরএফের নৌকায় করে তাঁরা সালারপুর, সরাইয়া, কোনিয়া এবং পুল কোহনা এলাকায় যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন।
গঙ্গার জল বাড়ায় নদীপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আসি ঘাট থেকে কেশব ঘাট পর্যন্ত নৌকা চলাচল করছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধু পরিদর্শন এবং নির্দেশ যথেষ্ট কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। কারণ বন্যার সময় সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দ্রুত উদ্ধার, পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং নিরাপদ আশ্রয়।
বারাণসীর সাংসদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই তাঁর নিজের কেন্দ্রের বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। বিরোধীদের বক্তব্য, বারাণসীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে বারবার জল জমা এবং গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপই সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি।


