পাকিস্তান ও চিনের সদ্যগঠিত যৌথ সীমান্ত কমিশন নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি অধিকার ওই কমিশনের নেই। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও ফের স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত পাকিস্তান-চিনের তথাকথিত সীমান্ত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর বক্তব্য, ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকেও ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে ইসলামাবাদের কোনও চুক্তি বা ব্যবস্থা করার অধিকার নেই বলেও জানানো হয়েছে।
ভারতের দাবি, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে যে সীমান্ত চুক্তি রয়েছে বলে দাবি করা হয়, তার সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ড জড়িত। ফলে ওই চুক্তি বা নতুন কোনও সীমান্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে দখলকৃত অঞ্চলের অবস্থান বদলানোর চেষ্টা মেনে নেবে না নয়াদিল্লি। ১৯৬৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান শাক্সগাম উপত্যকার প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চিনকে দিয়েছিল বলে ভারত দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে।
দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষবৈঠকের পরেই পাকিস্তান ও চিন যৌথ সীমান্ত কমিশনকে কার্যকর করেছে। বুধবার ইসলামাবাদে কমিশনের প্রথম বৈঠকও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত আগেও চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। কারণ, প্রকল্পটির একটি অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে বলে নয়াদিল্লির অভিযোগ। ভারত মনে করে, এই ধরনের পরিকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে বিতর্কিত ভূখণ্ডে চিন ও পাকিস্তানের কার্যকলাপ ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্ন তুলছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত যে কোনও ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘অবৈধ দখলদারি’কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখ্যান করবে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতের দাবি অনুযায়ী দখল করা এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

