পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে পুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছে এবং টাকা না দিলে দোকান সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কোলাঘাটের দেউলিয়া এলাকার ‘শতদল পুজো কমিটি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, চাঁদার জন্য যে বিল দেওয়া হয়েছে, তাতে পাঁশকুড়া পূর্বের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মাইতির নাম চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে। এই বিল দেখিয়েই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী সাদেক আলি দত্তের দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। টাকা না দিলে তাঁর দোকান তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। সাদেকের বক্তব্য, তিনি এত টাকা দিতে পারবেন না জানিয়ে কম টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।অন্যদিকে, স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মী পূর্ণিমা মান্নার অভিযোগ, তাঁর নামে ১০ হাজার টাকার চাঁদার বিল দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছিল, বিধায়কের তরফে এই টাকা চাওয়া হয়েছে এবং দেউলিয়ায় নতুন করে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।তবে পুরো বিষয়টির সঙ্গে নিজের কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মাইতি। তাঁর দাবি, কোলাঘাট ব্লকের বিভিন্ন পুজো কমিটির বিলে তাঁকে সভাপতি বা চেয়ারম্যান হিসেবে রাখা হয়। ফলে কোথায় কীভাবে চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা সবসময় তাঁর পক্ষে জানা সম্ভব নয়।বিধায়ক আরও বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে যদি কেউ জোর করে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। শতদল পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের উপর কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি করে চাঁদা আদায় বরদাস্ত করা হবে না।
‘২৫ হাজার টাকা দিতে হবে’, না দিলে দোকান সরিয়ে দেওয়ার হুমকি! কোলাঘাটে বিজেপি বিধায়কের নাম থাকা বিল দিয়ে পুজোর চাঁদার দাবি
Popular Categories


