উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় একটি খামারবাড়িতে ২৪ বছর বয়সি এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পুলিশকর্মী এবং দুই সিআরপিএফ জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে পিটিআই জানিয়েছে, যে খামারবাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির মালিক উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়ক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাসিন্দা। আমরোহার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ঘোরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই সূত্রে এক পরিচিতের মাধ্যমে তাঁর যোগাযোগ হয় মুজফ্ফরনগরের বাসিন্দা সিআরপিএফ জওয়ান মোহিতের সঙ্গে।
তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার হরিয়ানার সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখান থেকে দু’জনে মেরঠে যান। সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আরও এক সিআরপিএফ জওয়ান লালারাম যাদব।
অভিযোগ, পরের দিন মঙ্গলবার দুই জওয়ান একটি গাড়িতে করে তরুণীকে হাসানপুরের দিকে নিয়ে যান। পথে হাসানপুর থানার পুলিশকর্মী সঞ্জয় তোমরও ওই গাড়িতে ওঠেন। পরে তাঁরা আত্রাসি-হাসানপুর সড়কের ধারে একটি খামারবাড়িতে পৌঁছন। সেখানে দু’টি ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। হাসানপুর থানার আর এক পুলিশকর্মী প্রমোদও আগে থেকেই সেখানে ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তরুণীর অভিযোগ, ওই রাতে দুই সিআরপিএফ জওয়ান এবং এক পুলিশকর্মী পালা করে তাঁকে ধর্ষণ করেন। অপর পুলিশকর্মী তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে কোনও রকমে সেখান থেকে পালিয়ে অন্য একটি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ।
বুধবার ভোরে ওই ঘর থেকেই কোনও ভাবে থানায় যোগাযোগ করেন তরুণী। খবর পেয়ে হাসানপুর এবং রাজবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চার জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ এবং গণধর্ষণের ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমরোহার পুলিশ সুপার লক্ষ্মণ সিংহ যাদব জানিয়েছেন, চার অভিযুক্তই বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীর মধ্যে এক জনকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই সিআরপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার জন্য সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

