পশ্চিম এশিয়াকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সেনাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে গুগল, মাইক্রোসফ্ট, অ্যাপেল, ইন্টেল, আইবিএম, টেসলা, বোয়িংসহ মোট ১৮টি বড় সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান। তাদের দাবি, এই সংস্থাগুলির অফিস বা কারখানা পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে থাকুক না কেন, সেগুলিকে বৈধ আক্রমণের জায়গা হিসেবে ধরা হবে। এমনকি বুধবার থেকেই হামলা শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর বিশেষ করে আরব দেশগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের মতো দেশে এই সংস্থাগুলির বহু অফিস রয়েছে। ফলে সেগুলি আক্রমণের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, ইউরোপের দেশগুলিও চিন্তায় রয়েছে, কারণ ইরান আগে দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানার ক্ষমতা দেখিয়েছে।
এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে একটি বড় ঘটনা ঘটেছে। দুবাই উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কোনও প্রাণহানি হয়নি বলে জানা গেছে, তবে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, শান্তির প্রস্তাব না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি সংক্রান্ত পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা হলে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।
তবে ইউরোপের দেশগুলি এই পরিস্থিতিতে কিছুটা আলাদা অবস্থান নিয়েছে। ফ্রান্স ইতিমধ্যেই তাদের আকাশপথ ইজরায়েলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণে বাধা তৈরি হয়েছে। এতে পশ্চিমি দেশগুলির মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, যুদ্ধ খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের দাবি, গত এক মাসে ইরানের সামরিক শক্তি অনেকটাই দুর্বল করা গেছে। যদিও বাস্তবে সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং ইরান ও ইজরায়েল দু’পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইজরায়েল তেহরানের কিছু সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে লেবানন সীমান্তে হেজবোল্লার সঙ্গে সংঘর্ষেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। গাজাতেও আবার বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত সেনা, নৌবাহিনী ও বিশেষ বাহিনী সেখানে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রতিরক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুদ্ধ থামানোর বদলে সংঘর্ষ আরও বাড়ছে, যা গোটা বিশ্বের জন্য বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


