মুর্শিদাবাদের তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদ আবু তাহের খানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে এবার অতিরিক্ত রাজ্য পুলিশের স্কট থাকছে। আগে সাংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মাত্র দু’জন কনস্টেবল। আচমকা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলার আশঙ্কা থেকেই কি এই সিদ্ধান্ত, উঠছে সেই প্রশ্নও।
পুলিশি সূত্রের খবর, নতুন ব্যবস্থায় সাংসদের সঙ্গে একজন এএসআই বা এসআই পদমর্যাদার আধিকারিক এবং দু’জন কনস্টেবল থাকবেন। অর্থাৎ, আগের তুলনায় তাঁর নিরাপত্তার পরিধি বাড়ল। তবে ঠিক কী কারণে এই অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জেলা পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।
আবু তাহের খান অবশ্য বিষয়টিকে নতুন কোনও ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলেও তিনি কোনও এলাকায় যাওয়ার আগে পুলিশকে জানাতেন। এরপর যে থানা এলাকার মধ্যে দিয়ে তাঁর যাতায়াত থাকত, সেই এলাকার পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যেত। তাঁর দাবি, এখনও সেই ব্যবস্থাই চালু রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে বিরোধীরা যে নানা কথা বলছেন, তা নিয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ।
তবে সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা সরাসরি কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিলের সময় আবু তাহের খান বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলেই তাঁকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, এনসিপিআইয়ের ভিতরে বিজেপির প্রভাব রয়েছে।
এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হওয়ার পর আবু তাহের খানের দলবদল ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়েছে। এবার তাঁর নিরাপত্তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
যদিও সিপিএমের অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া আবু তাহের খানের তরফে পাওয়া যায়নি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা বাড়ানোর কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না বলেই খবর।
ফলে আপাতত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কোনও নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পেয়েই কি সাংসদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, নাকি এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ। পুলিশ প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এই জল্পনা চলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


