Tuesday, July 21, 2026
26.2 C
Kolkata

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারির পরোয়ানায় সই করায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চরম সংকটে আইসিসি–র ফরাসি বিচারক নিকোলা গুইয়ো 

ইউরোপের বিচারব্যবস্থায় বিরল এক ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনার ঝড় উঠেছে। হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-র ফরাসি বিচারক নিকোলা গুইয়ো এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যাকে তিনি নিজের জীবনের অর্থনৈতিক নির্বাসন বলে বর্ণনা করেছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় সই করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

জানা যায়, আমেরিকার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যে কোনও আর্থিক লেনদেন তার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গুগল, অ্যামাজন, অ্যাপল এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলিতে তিনি কোনও অ্যাকাউন্ট খুলতে বা বজায় রাখতে পারছেন না। এমনকি সাধারণ অনলাইন কেনাকাটাও তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ভিসা, মাস্টারকার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস, এই তিনটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ডই আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় সেগুলিও ব্যবহার করতে পারছেন না তিনি। হোটেল বুকিং করতেও সমস্যা হচ্ছে তার। ফ্রান্সে এক হোটেলে বুকিং করা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা বাতিল হয়ে যায়, কারণ বুকিং প্ল্যাটফর্মটি মার্কিন নীতির আওতায় পড়ে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, শুধু আমেরিকান ব্যাংক নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ব্যাংকগুলি তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে। যে ফ্রান্স তার নিজের দেশ, কিংবা নেদারল্যান্ডস, যেখানে তিনি আদালতের দায়িত্ব পালন করেন সেখানেও তিনি স্বাভাবিক ব্যাংকিং পরিষেবা পাচ্ছেন না।  এই ঘটনাকে ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এক ইউরোপীয় নাগরিক যিনি ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের নীতি অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিরুদ্ধে কেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এত সহজে প্রয়োগ করা গেল এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কেন ইউরোপ নিজেই তার নাগরিককে রক্ষা করতে পারল না।  ইউরোপীয় ব্যাংক ও সংস্থাগুলি অনেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে গুইয়োকে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করছে।

সমালোচকদের মতে, একজন ইউরোপীয় বিচারক, যিনি ইউরোপের সমর্থিত আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে কাজ করেছেন, আজ ইউরোপেই একপ্রকার অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার শিকার। অথচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে তেমন কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে অনেকে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েনের নতুন দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছেন।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories