Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

গণনার আগেই ‘সুপ্রিম’ ধাক্কা তৃণমূলের! গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের থাকা নিয়ে কমিশনের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপে ‘না’ শীর্ষ আদালতের

ভোটগণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ব্যবহার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আপত্তি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল তৃণমূল। শনিবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণনাকর্মী হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের নিয়োগে কোনও আইনি বাধা নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনের গত ১৩ এপ্রিলের নির্দেশিকা বহাল থাকল। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই নির্দেশিকা যেন পালন করা হয়।

শনিবার বিচারপতি পি.এস. নরসিংহ ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। কপিল সিব্বল আদালতে দাবি করেন, ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের একটি নির্দেশিকা পাঠায় নির্বাচন কমিশন, যেখানে বলা হয় ভোটগণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু সেই নির্দেশিকার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলি ২৯ এপ্রিল জানতে পারে।

সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কেন সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা করছে এবং যখন প্রতিটি গণনা টেবিলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে রয়েছেন, তখন নতুন করে কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন কী? তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরোক্ষে রাজ্য সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করা হয়েছে।

শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা বাধ্যতামূলক—এমন কোনও বিধান কোথায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টিং সুপারভাইজার বা কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্র কিংবা রাজ্য—উভয় সরকারি কর্মীই হতে পারেন। তাই কমিশনের নির্দেশিকাকে বিধি-বিরোধী বলা যায় না।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটগণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে এবং তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারের আধিকারিকই হন। পাশাপাশি প্রতিটি প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট উপস্থিত থাকেন। ফলে পক্ষপাত বা অনিয়মের আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের আলাদা করে দেখা উচিত নয়—তাঁরা সকলেই সরকারি কর্মচারী। তাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা আইনবিরোধী নয়। ফলে আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের কড়া নজরদারিতেই সম্পন্ন হবে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories