২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেশের একাধিক রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং অসম—সব জায়গাতেই এখন সরকার গঠন ও জোট রাজনীতি নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল সরকারের পতনের পর বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বুধবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, আগামী ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পাওয়ার পর দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবরও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমার জানিয়েছেন, ভাঙচুর বা হামলার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় কিছু নির্মাণ ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভাঙাকে ঘিরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অসমেও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও সেখানে আবারও বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে, তবু সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১১ মে-র পর নতুন সরকারের শপথ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মুসলিম বিদ্বেষী কুরুচিকর ভাষণ এবং মুসলিম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের জন্য হেমন্ত বিশ্বাস শর্মাকে নিয়ে খানিক অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি সরকার।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর ১৬তম বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। তার আগে অভিনেতা- বিজয় তাঁর দল ‘টিভিকে’-র পক্ষ থেকে সরকার গঠনের দাবি জানান। সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তারা বিজয়ের দলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। এতে দক্ষিণের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


